গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ‘Most Entertaining Hero in Bangladesh’ লিখে অনুসন্ধান করলেই যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন জায়েদ খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই অভিনেতা বর্তমানে নিজেই যেন এক জীবন্ত ইতিহাস। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তার জীবন, রাজনীতি এবং ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কবির বকুল।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে তাকে ফোন করে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যখন তার সাথে যোগাযোগ হয়, তখন দূর প্রবাসের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “থ্যাংক ইউ সো মাচ। আমি গতকালই (১৭ অক্টোবর) কানাডা থেকে ফিরেছি। সকালে গিয়েছিলাম জিমে। শরীরটা ঠিক রাখতে হবে না? তাই কলটা ধরতে পারিনি। বলেন, কী জানতে চান। তবে একটা রিকোয়েস্ট—শার্টের বোতাম কিন্তু আর খুলতে পারব না। অলরেডি আমার সিক্স প্যাকের বাতাসে রুমের এসি অনেক ঠান্ডা হয়ে গেছে!”
তার শারীরিক গঠন বা সিক্স প্যাকের রহস্যের আগে আলোচনা শুরু হয় তার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কথা উঠে আসে। আমেরিকার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে জানান, “আরে না! মামদানি আসলে ‘ইমিগ্র্যান্ট ডায়েরিজ’ সিরিজে আমার কাজ দেখার পর থেকেই আমার ফ্যান। তিনি আমাকে সামনাসামনি দেখেই বললেন—‘আপনি তো ঢাবির ছাত্র, পলিটিকস আপনার রক্তে! আমাকে একটা পরামর্শ দেন।’ আমি বললাম, ‘মিস্টার মামদানি, পলিটিকস করতে হলে বডিতে কারিশমা লাগে। এই যে আমার হাতের ব্রেসলেট, এটা দেখলেই ভোটাররা এমনিতেই ইমপ্রেসড হয়ে ভোট দিয়ে দেয়!’”
তবে এই তথাকথিত কারিশমা এফডিসির শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কাজে লাগেনি। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সেই চেয়ারটি নিপুণের কাছে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিস ইজ আ কনস্পিরেসি! টোটাল ষড়যন্ত্র! চেয়ার আমি হারাইনি, চেয়ার আমার কাছ থেকে একদম ‘নিপুণভাবে’ ছিনতাই করা হয়েছে!”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রল করা হয়। এই বিষয়ে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ট্রল করা মানেই হলো ভালোবাসা। তার মতে, যাকে ভালোবাসা হয়, তাকে নিয়েই মানুষ আলোচনা করে। তিনি মনে করেন, ট্রলের কারণেই তিনি এখনো ট্রেন্ডিংয়ে আছেন এবং উদাহরণ হিসেবে শাহরুখ খানের কথা উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গে কথা উঠলে জানা যায়, কানাডায় গিয়ে তিনি এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তার নতুন অ্যাকশন সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’-এর শুটিংয়ে তিনি একজন কানাডিয়ান পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই বিষয়ে তিনি গর্বের সাথে বলেন, “হ্যাঁ! আমার নতুন অ্যাকশন সিনেমা ভায়োলেন্স –এর শুটিংয়ে আমি কানাডার পুলিশ অফিসারের রোল করছি। পুরো বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে আমিই একমাত্র পুরুষ অভিনেতা, যে অন-স্ক্রিন কানাডিয়ান পুলিশ অফিসার হয়েছে!”
সিনেমাটিতে তার সিগনেচার ‘ডিগবাজি’র উপস্থিতি থাকবে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, জায়েদ খান আর ডিগবাজি অবিচ্ছেদ্য। তিনি বর্ণনা করেন, “‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় ভিলেন যখন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, তখন আমি বাতাসে শূন্যে ভেসে তিনটা ব্যাকফ্লিপ আর চারটা ডিগবাজি খেয়ে সেই গুলি হাত দিয়ে ক্যাচ ধরি!”
তার এই অসাধারণ ডিগবাজির রহস্য জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘গ্লোবাল ডিগবাজি স্টার’ বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, “রহস্য কিছুই না। আমি হলাম গ্লোবাল ডিগবাজি স্টার! কারণ, অন্য স্টাররা আকাশে থাকে, আমি ডিগবাজি দিয়ে মানুষের মনে থাকি!”
ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি সিনেমার সাথে বিবাহিত। তবে এমন একজন জীবনসঙ্গিনী খুঁজছেন, যে তার ডিগবাজি সহ্য করতে পারবে। টিকটক, ফেসবুক এবং সিনেমার মতো সব প্ল্যাটফর্মে তার এই অফুরন্ত শক্তির উৎস জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি ব্যাটারি না, আমি পাওয়ার ব্যাংক! চার্জ শেষ হয় না। আপনারা ভালোবাসা দেন, আমি চার্জড হয়ে যাই।”
হলিউড থেকে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি শর্ত দেন যে, তাদের আগে বাংলা ভাষা শিখতে হবে। কারণ তার দাবি, “আমি ডায়ালগ বাংলায় দিলেই হিট!”
নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী হিসেবে তিনি আয়নাকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ালে আয়নাও অবাক হয়ে যায় যে এত সুন্দর মানুষ কীভাবে সম্ভব।
নতুন প্রজন্মের নায়কদের উদ্দেশ্যে তার বিশেষ উপদেশ হলো, “একটাই উপদেশ—লুঙ্গি পরা শিখো, ডিগবাজি শিখো, আর অপমান হজম করা শিখো। তাইলে তুমিও জায়েদ খান হতে পারবে!”
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে নিজেকে এক লাইনে বর্ণনা করতে বলা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমি গরিবের শাহরুখ খান না, বড়লোকের জায়েদ খান! অরিজিনাল পিস, কপি না!”