ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নতুন ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রসভা’র (ন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসেম্বলি) প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তার, কর্মমুখী ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রস্তুতি কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা সংগঠক হিসেবে কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংগঠনের কাজ পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন: আইন বিভাগের আনিকা তাহসিনা, রেজওয়ান আহমেদ রিফাত, জাহিদ রহমান ও ফারদিন খান; সংস্কৃত বিভাগের শিমু আখতার; গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইসমাইল জবিউল্লাহ নাহিদ; দর্শন বিভাগের আবু মিশাল, নিশাত তাসনিম প্রমি, মো. রাজেদুল ইসলাম ও আমির হামজা; তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের (ইইই) মাশরুক বিন ইসলাম; লোকপ্রশাসন বিভাগের মিথিলা ফারজানা মীম ও মো. আবদুল্লাহ; এবং ইতিহাস বিভাগের মুহিউদ্ীন ইকবাল।
কমিটির কয়েকজন সদস্য এর আগে ছাত্ররাজনীতি ও ডাকসু নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। আনিকা তাহসিনা ও রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। শিমু আখতার ওই নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ইসমাইল জবিউল্লাহ নাহিদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং নিশাত তাসনিম প্রমি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের ইনডোর গেমস সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় ছাত্রসভা উল্লেখ করে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ছাত্ররাজনীতি সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতার শিকার। ক্যাম্পাসে স্বাধীন চিন্তা, গবেষণা ও সংলাপের পরিবেশও সংকুচিত হয়েছে। এসব পরিস্থিতি পরিবর্তনে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার সংহতি গড়ে তুলে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।