সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তির পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এই বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, আর এই কারণেই একে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ঐশ্বর্য, সম্পদ এবং সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভের প্রত্যাশায় ভক্তরা আজ উপবাসব্রত পালন এবং বিশেষ পূজা-অর্চনার আয়োজন করেছেন। পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, আজ (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৫৫ বা ১১টা ৫৯ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। এই তিথি আগামীকাল সকাল ৯টা ৪১ বা ১০টা ৫০ মিনিটে শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে।
‘কোজাগরী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কে জেগে আছো’। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে যারা জাগ্রত থেকে দেবীর আরাধনায় মগ্ন থাকেন, তারা দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা লাভ করেন। এই বিশ্বাসের কারণেই লক্ষ্মীপূজায় রাত জেগে উপাসনা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। আজ বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দেবীর আরাধনা চলবে। মনে করা হয়, এই রাতে দেবী লক্ষ্মী স্বয়ং ঘরে ঘরে পরিভ্রমণ করেন, তাই ভক্তরা রাত জেগে তাঁর আরাধনায় নিয়োজিত থাকেন।
পূজার এই বিশেষ দিনে ভক্তরা উপবাস থেকে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। বাঙালি হিন্দু পরিবারগুলোতে বাড়ির আঙিনায় চালের গুঁড়া ব্যবহার করে দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকার ঐতিহ্য রয়েছে। এই পূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও পানি।
লক্ষ্মীপূজার দিন ঘরে ঘরে ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ পাঠ করার নিয়ম রয়েছে। বাংলার জনসমাজে দেবী লক্ষ্মীকে কেন্দ্র করে অনেক জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে, যা পাঁচালি আকারে এই বিশেষ দিনে পাঠ করা হয়। একেই বলা হয় লক্ষ্মীর পাঁচালি।
উল্লেখ্য যে, আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও অনেকে প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করে থাকেন। এছাড়া দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজা করার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।