আসন্ন দৌড় প্রতিযোগিতার কিট সংগ্রহ করতে কেউ এসেছেন একাই, আবার কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এরই মাঝে শিশুদের সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ, শুরু হয় ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। কোথাও ঐতিহ্যবাহী পিঠার আয়োজন, আবার কোথাও কফি হাতে দৌড়প্রেমীদের প্রাণবন্ত আড্ডা। সব মিলিয়ে দৌড়ের প্রস্তুতি যেন এক পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক উৎসবে রূপ নেয়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আশা ইউনিভার্সিটির আশা টাওয়ার প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় ‘জি১ অ্যাডভান্স প্রেজেন্টস ফ্যামিলি রানার্স ১৫কে রান ২০২৬’-এর কিট এক্সপোতে। আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বহুল প্রতীক্ষিত দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার আগে নিবন্ধিত দৌড়বিদদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।
সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলমান এই কিট এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের মাঝে রেস বিব নম্বর, জার্সি এবং কিট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। কেবল সরঞ্জাম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই আয়োজন; দৌড়বিদেরা এখানে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং আসন্ন প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পুরো এক্সপোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশুদের জন্য আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। দৌড়বিদদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য এমন সৃজনশীল আয়োজন পুরো পরিবেশটিকে একটি পারিবারিক উৎসবের আমেজ দেয়।
আয়োজনটিতে আরও ছিল ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব এবং কফি কর্নার। ফলে কিট সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, আড্ডা এবং শিশুদের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত আনন্দমুখর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন খান।
তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই ফ্যামিলি রানার্স ১৫ কিলোমিটার রানে এবার মোট ২ হাজার ৫০০ জন দৌড়বিদ নিবন্ধন করেছেন। আগামী ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে মূল প্রতিযোগিতা। এই দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগ রাখা হয়েছে— ১৫ কিলোমিটার, ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং শিশুদের জন্য ৫০০ মিটার দৌড়।
আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পরিবারকে শরীরচর্চায় উৎসাহিত করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিশুদের দৌড়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের দৌড়প্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। উল্লেখ্য যে, প্রথমবারের মতো এবারও এই আয়োজনে অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে মুক্তকণ্ঠ।