ঢাকার হাতিরঝিলের মহানগর আবাসিক এলাকায় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ আরও ৯ জন আসামিকে সম্পৃক্ত করার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার শুনানির পর ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি থেকে ইতিপূর্বে ৯ জন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অব্যাহতি বাতিলের লক্ষ্যে বাদী পক্ষ রিভিশন আবেদন দাখিল করেন। তবে আদালত সেই রিভিশন আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন। ফলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলাটি চলবে।
আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আদেশে সন্তুষ্ট নই। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর। ওই দিন হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটিতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আব্দুল লতিফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আরও ১১ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলা দায়েরের দিনই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায় যে, শেখ রবিউল আলমের প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রপার্টিজ নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন নির্মাণ করে। সেই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরেই ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি এবং মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করে।
তদন্ত কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক জাকারিয়া আলম আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের এই সুপারিশে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ।
পরবর্তীতে গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত বাদীর নারাজি আবেদনটি নামঞ্জুর করে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং রবিউল আলমসহ ৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
এই মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে বিচার চলবে, তারা হলেন—প্লেজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের এমডি মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক এবং মাহফুজার রহমান।
অন্যদিকে, আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন। এই অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেছিলেন বাদী সুলতান আহমেদ, যা আজ নামঞ্জুর করা হলো।