কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বর্তমান উৎকর্ষের ফলে এখন কেবল বার্তা আদান-প্রদান নয়, বরং বিভিন্ন জটিল বিষয়ে বিস্তারিত লেখা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই-মেইল থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণাপত্র এবং সংবাদপত্রের কলাম রচনায় এআই-এর ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অনেক এআই মডেল মানুষের লেখার শৈলীর মতোই সাবলীলভাবে লিখতে সক্ষম, যার ফলে অনেকেই এআই-এর সহায়তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস বা গল্প লিখে ই-বুক হিসেবে প্রকাশ করছেন। তবে সাহিত্য জগতে এই প্রবণতা নিয়ে নানা বিধিনিষেধ ও বিতর্ক বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে এআই-এর সহায়তায় লেখা বইয়ের স্বীকৃতি দিতে ‘প্রি পাসকাল দ্য লিতেরাতুর আইএ’ নামের একটি নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু করেছেন ফ্রান্সের তিনজন উদ্যোক্তা।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই পুরস্কারের লড়াইয়ে অংশ নিতে হলে এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (এলএলএম) সাহায্যে ফরাসি ভাষায় লেখা ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার শব্দের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর সাথে এটিও উল্লেখ করতে হবে যে, লেখাটি তৈরিতে কোন নির্দিষ্ট এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং লেখক কী ধরনের প্রম্পট বা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এছাড়া শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, পাণ্ডুলিপিতে এমন কোনো বিষয়বস্তু থাকতে হবে যা মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠা নৈতিক, সামাজিক কিংবা পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ঘোষিত পাণ্ডুলিপিটি পরবর্তীতে বিনামূল্যে বই আকারে প্রকাশ করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরস্কারের জন্য পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে সেরা ১০টি পাণ্ডুলিপির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল চূড়ান্তভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন। উল্লেখ্য, ‘প্রি পাসকাল দ্য লিতেরাতুর আইএ’ পুরস্কারটি মূলত একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্মাননা। ফ্রান্সের উদ্যোক্তা ফিলিপ রদ্রিগেজ, আলবিন সার্ভিয়ান্ত এবং জিল মঁত্রে বিখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী ব্লেইজ পাসকালের নামানুসারে এই পুরস্কারটির নামকরণ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, সাহিত্য রচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কানাডীয়-হাইতীয় লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সম্পূর্ণ একটি উপন্যাস লিখেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের দীর্ঘ তালিকা থেকে তাঁর লেখা বইটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই পুরস্কারের উদ্যোগের মাধ্যমে সাহিত্যে এআই-এর প্রকৃত ভূমিকা ও সম্ভাবনা মূল্যায়নের একটি নতুন পথ উন্মোচিত হবে।