রাত তখন ১০টা। ফারহান (ছদ্মনাম) এআইকে লিখল, ‘আমাকে একটা রচনা লিখে দাও।’ তবে এআই-এর দেওয়া উত্তরটি ছিল এতটাই সাধারণ ও সাদামাটা যে ফারহান বেশ হতাশ হলেন। তিনি মনে করতে শুরু করলেন, এআই আসলে কোনো কাজেরই নয়! কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে প্রশ্ন জাগে, এই ব্যর্থতার দায় কি সত্যিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছিল?
প্রযুক্তিগত ভাষায়, এআইকে দেওয়া যে নির্দেশনা দেওয়া হয় তাকে বলা হয় প্রম্পট বা নির্দেশবার্তা। সহজ কথা হলো, ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা নির্দেশনা যত অস্পষ্ট হবে, এআই-এর উত্তরও ঠিক ততটাই অস্পষ্ট হবে। তাই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে হলে প্রম্পট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেমন:
১. চরিত্র বা ভূমিকা নির্ধারণ করে দিন: যেমন— ‘তুমি একজন অভিজ্ঞ বাংলা শিক্ষক।’
২. নির্দিষ্ট কাজ বুঝিয়ে বলুন: যেমন— দশম শ্রেণির জন্য ‘বর্ষাকাল’ নিয়ে রচনা লেখো।
৩. প্রয়োজনীয় শর্তারোপ করুন: যেমন— ‘২০০ শব্দের মধ্যে, সহজ ভাষায়।’
৪. উদাহরণের অনুরোধ জানান: যেমন— ‘সঙ্গে দুটি বাস্তব উদাহরণ যোগ করো।’
ফারহান যখন এই পদ্ধতি অনুসরণ করে পুনরায় এআই-এর কাছে অনুরোধ জানালেন, তখন তিনি দেখলেন উত্তরটি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও মানসম্মত হয়েছে। এখানে এআই বা ব্যবহৃত ডিভাইস একই ছিল, কেবল প্রশ্নের ধরন পরিবর্তনের কারণেই উত্তরের গুণগত মান বদলে গেল। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে মজার দিক হলো, যদি প্রথমবার উত্তর পছন্দ না হয়, তবে তাকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া যায়। যেমন— ‘আরও সহজ করো’ বা ‘ছোট করো’ বলে যতবার ইচ্ছা পরিবর্তন করিয়ে নেওয়া সম্ভব। কারণ, মানুষ যেমন বিরক্ত হয়, এআই কখনো বিরক্ত হয় না।
তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। মনে রাখতে হবে, একটি ভালো প্রম্পট মানেই একটি ভালো উত্তর, তবে তা সব সময় নির্ভুল উত্তরের নিশ্চয়তা দেয় না। এআই অনেক সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল তথ্য প্রদান করতে পারে। তাই বিশেষ করে নাম, তারিখ বা সংখ্যাজাতীয় তথ্যের ক্ষেত্রে সেগুলো অন্য নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি।
— লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর