রাত তখন ৯টা। রাফির মা রান্নাঘর থেকে ডেকে বললেন, ‘গুগলে জিজ্ঞেস কর তো কাল বৃষ্টি হবে কি না?’ রাফি তার স্মার্টফোনে প্রশ্ন করল, ‘কালকের আবহাওয়া কেমন থাকবে?’ মুহূর্তের মধ্যেই ফোনের স্ক্রিনে স্পষ্ট উত্তর ভেসে উঠল। এই দৃশ্য দেখে রাফির মা অবাক হয়ে বললেন, ‘ফোনটা তো এখন প্রায় মানুষের মতোই বুঝে ফেলে!’
স্মার্টফোনের এই সক্ষমতা, যেখানে একটি যন্ত্র মানুষের প্রশ্ন বুঝতে পারে এবং তার যথাযথ উত্তর দিতে পারে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। সহজভাবে ব্যাখ্যা করলে, এআই হলো এমন একটি উন্নত প্রযুক্তি যা কোটি কোটি তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে তার ভেতর নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ধরন খুঁজে বের করে। এরপর সেই প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে এটি অনুমান করে যে নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি কী হতে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, এআই মানুষের মতো করে সত্যিকার অর্থে চিন্তা করতে পারে না; বরং এটি বিপুল পরিমাণ উদাহরণ এবং তথ্যের মধ্য থেকে গাণিতিক সম্ভাবনা হিসাব করে উত্তর প্রদান করে।
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত এআই-এর ব্যবহার করছি, যদিও অনেক সময় তা আমাদের চোখে পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ, স্মার্টফোনের কি-বোর্ড যখন টাইপ করার সময় পরবর্তী শব্দটি কী হতে পারে তা আগে থেকেই বলে দেয়, কিংবা ইউটিউব যখন ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও সাজেস্ট করে—এই প্রতিটি ছোট ছোট ঘটনা আসলে এআই প্রযুক্তিরই প্রয়োগ।
তবে এই প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এআই মাঝেমধ্যে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে উপস্থাপন করে, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় বলা হয় 'হ্যালুসিনেশন'। সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন অনেক ব্যবহারকারী এই তথ্যগুলো যাচাই না করেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ফেলেন। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, এআই-এর দেওয়া উত্তরকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে বরং একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবে নেওয়া উচিত। পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্য উৎসের মাধ্যমে সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।