কল্পনা করুন তো, একটা ভিডিওতে পরিচিত এক মন্ত্রী নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার করছেন। গলার স্বর, মুখের ভঙ্গি, সবকিছু একদম আসল মনে হচ্ছে। রাত ১১টায় তানভীর এমনই একটা ভিডিও পেয়ে অবাক হয়ে, যাচাই–বাছাই না করেই দশজনকে পাঠিয়ে দিল। পরদিন সকালে জানা গেল, পুরো ভিডিওটাই ছিল ভুয়া!
প্রযুক্তির এই জালিয়াতিকে বলা হয় ডিপফেক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি জাল ভিডিও। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে খুব সহজেই কারও কণ্ঠস্বর নকল করা, মুখের ভাব বদলে দেওয়া এবং এমনকি সম্পূর্ণ নতুন দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কাজ করতে এখন আর বিশেষ কোনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না এবং এতে বিশাল কোনো খরচও লাগে না। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এই ধরনের কাজ করতে হলে পেশাদার স্টুডিও, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ এবং অত্যন্ত দামি সফটওয়্যারের প্রয়োজন হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে যেকোনো সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহার করেই এই জাল ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ডিপফেকের এই ঝুঁকি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একটি ভুয়া ভিডিওর মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে পারে গুজব, হতে পারে ব্যক্তিগত সম্মানহানি, তৈরি হতে পারে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, এমনকি সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের সময় এ ধরনের জাল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। আমাদের দেশেও ইদানীং এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে।
তাই বর্তমান সময়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, শুধু চোখে দেখাটাই আর চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার উৎস যাচাই করে নিন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা জায়গায় একই খবর প্রকাশিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখুন। যদি কোনো ভিডিও সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তাড়াহুড়া না করে নিজে থেকেই কিছুটা সময় নিয়ে সেটি যাচাই করুন। সবশেষে নিশ্চিত হয়েই শেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।
— লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর