গত ১৭ অক্টোবর মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় ‘নিজ জমিতে গবেষণা করে ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন, এখনো মেলেনি স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। শেরপুরের এক কৃষকের অসাধারণ এই উদ্ভাবনী সাফল্যের খবরটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর, সেই কৃষকের প্রচেষ্টাকে খতিয়ে দেখতে তাঁর বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামে কৃষক সেন্টু কুমার হাজংয়ের বাসভবনে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে তিনি সেন্টু কুমার হাজংয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

এই পরিদর্শনের সময় নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সেন্টু কুমার হাজংয়ের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড দেখে মুগ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “জেলার তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা এবং সেগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে শেরপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টু কুমার হাজংয়ের মতো উদ্ভাবকদের হাত ধরে শেরপুরের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের কৃষির অপার সম্ভাবনা বিকশিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব কোনো বাধা হতে পারে না। তিনি বলেন, “সেন্টু কুমার হাজংয়ের পথচলা প্রমাণ করে সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কখনোই মানুষের সম্ভাবনার চূড়ান্ত সীমা হতে পারে না। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন মানুষও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। সমাজের এমন নীরব কর্মবীর ও তৃণমূলের উদ্ভাবকেরাই আমাদের প্রকৃত সম্পদ। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, কর্মনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারলে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

উল্লেখ্য যে, কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং (৫৫) কোনো আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি কিংবা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াই তাঁর কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি জরাজীর্ণ ঘরে থেকে নিজের ১২ কাঠা আবাদি জমিকেই গবেষণাগারে পরিণত করেছেন তিনি। দীর্ঘ ২১ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় তিনি এখন পর্যন্ত ২৫টি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এই গবেষণার কাজ এখনো থেমে নেই; বর্তমানে আরও দুই শতাধিক জাত উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর উদ্ভাবিত ধান চাষ করে স্থানীয় শত শত কৃষক লাভবান হচ্ছেন, যার ফলে বাজারেও এই ধানের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ দীর্ঘ সময় ধরে সেন্টু হাজংয়ের এই গবেষণার বিষয়ে অবগত থাকলেও, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পাননি।