বিয়ের আনন্দ ও উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এক করুণ পরিণতির মুখোমুখি হলেন এক তরুণী। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় শ্বশুরবাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেই মামলায় পুলিশ নববধূর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত তরুণীর পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একটি গ্রামে। গত ১৫ অক্টোবর নালিতাবাড়ী উপজেলার একরামুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে শোকের সাগরে ডুবেছে তাঁর পরিবার।

মেয়েটির বাবা জানান, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে জামাতার বাড়ি থেকে ফোন করে তাঁর মেয়ের অসুস্থতার কথা জানানো হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে দ্রুত নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেয়ের মৃত্যুর পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কথা দাবি করে বাবা বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়া আমার মেয়ে মরতে পারে না। আমি মামলা করেছি। এ ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাহাদ রহমান জানিয়েছেন, ওই নববধূকে হাসপাতালে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়েছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ওই নববধূ তাঁর স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গতকাল বিকেলে তিনি পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। জানা গেছে, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো কিছু জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় তা কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য তৈরি হয়।

মেয়েটির মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাঁর মেয়েকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাঁর অভিযোগ, মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নববধূর স্বামী। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, রাতে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এরপর বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমি পাকা ঘরে স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তিনি আরও জানান, তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রীকে নিচে নামিয়ে আনেন।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নববধূর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।