বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে পুলিশের এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে মোট ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৯টি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণির বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এই অভিযানটি পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান চলে।
আটককৃতদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর রয়েছেন সাতজন। পুলিশি তথ্যানুযায়ী, ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ১২ জনকে এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে আটক হয়েছেন দুজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি পাথরঘাটা এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হিসেবেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাথরঘাটা পৌরসভার নীলিমা পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এই অভিযানে বিভিন্ন বয়সের সন্দেহভাজন ২১ জনকে আটক করা হয় এবং কাগজপত্রহীন ৯টি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, “চিফ হুইপ পাথরঘাটাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত দেখতে চান এবং এ বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ সুপারেরও এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এর ধারাবাহিকতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”