রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত জানান। সেই অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার থেকে তাঁরা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবির তালিকায় ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জামের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, রোগীর স্বজনদের হাসপাতালে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ পুনরায় চালু করা।
হাসপাতালের পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এসব দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস প্রদান করেন। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। রাজশাহী মেডিকেলের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি শাহাদাত মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন, “কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থা রেখে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত দাবিগুলোর দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন চান তাঁরা।”
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের কক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।”
এই কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। প্রায় ২৫২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক কাজে অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরম হিমশিম খেয়েছিল।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সে সময় নার্স এবং মেডিক্যাল কর্মকর্তারা রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তবে রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে তাঁদের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসক না পাওয়ায় রোগী এবং তাঁদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতাল ত্যাগ করতেও দেখা গেছে।
তবে কর্মবিরতির এই সংকটময় সময়েও রোগীদের সেবা চালু রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মেডিক্যাল কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন ও রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।