পার্বত্য আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়ক ছেড়ে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়, যার ফলে পুরো সাজেক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেনাবাহিনী ও পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায় উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অবরোধকারীদের অবস্থানের কারণে সেখানে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকরা খাগড়াছড়ি পৌঁছাতে সক্ষম হন।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। সংগঠন দুটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তবে তিন দফা দাবির সমাধান না হলে আটকে পড়া পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা সড়কে অবস্থান চালিয়ে যাবেন। শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের চলে যাওয়ার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তাই ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অবরোধ চলছে।”

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি দাবি করেন, “এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।”

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে। তিনি আরও জানান, “এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তারা আজ সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন। অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটকেরা সেখান থেকে সরতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকের গাড়িবহর উজোবাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়।”

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন জানান, সাধারণত অন্যদিন সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যান সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে আজ সকাল ৯টাতেই গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন।

এদিকে নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।