রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ নামের দুটি সংগঠনের আহ্বানে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উপজেলার বাঘাইহাট ১০ নম্বর, গঙ্গারাম সেতু এবং মাচলঙ ১৪ কিলোসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাজেকগামী যাত্রী, সেখান থেকে ফেরার পথে থাকা পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনটি নির্দিষ্ট দাবির ভিত্তিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন অবরোধকারীরা। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর একই দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই দিন বিকেলে প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফার অবরোধের ঘোষণা দেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছেন যে, সাজেক এলাকায় আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু লারমা) সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আগে সমাবেশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা পুনরায় সড়ক অবরোধের পথ বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, জেএসএস এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে এই দুটি সংগঠন সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের যে নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে, সেসব আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
এর আগে অবরোধের কারণে গত রবিবার পর্যটকবাহী বেশ কিছু যান সাজেক এলাকায় আটকা পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সাজেকের সড়কে বর্তমানে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।”