রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে দুটি সংগঠনের আহ্বানে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর করা হয়। এর ফলে সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
সকাল থেকেই অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের। তারা দৃঢ়ভাবে যান চলাচলে বাধা প্রদান করছেন। উল্লেখ্য, এই সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামের দুটি সংগঠন।
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যটকের ভরা মৌসুম। দৈনিক গড়ে ৩০টি মাহিন্দ্রা ও জিপে করে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেকে যান। আজ সকালেও অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দেন। অবরোধের কারণে পর্যটকেরা বাঘাইহাটের পরে আর যেতে পারেননি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বেলা দুইটার দিকে পর্যটকদের সাজেক নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।’
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সাজেকে অবরোধের কথা শুনে গতকাল কিছু পর্যটক চলে গেছেন, আবার নতুন কিছু পর্যটক চলেও এসেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন।’ তিনি আরও জানান, আজ সকালে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে সাজেক থেকে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি। বেলা দুইটার দিকে এসব যানবাহন ছাড়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সকাল ছয়টা থেকে তাঁদের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় পিকেটিং করার সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাজেকে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। পর্যটকবাহী সব গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় বেলা দুইটায় সাজেক থেকে বের হবে এবং একই সময়ে বাঘাইহাট থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দেবে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু লারমা)। তাদের দাবি, দলটি স্থানীয় সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানায়।
অন্যদিকে, জেএসএস এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে এই দুটি সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের যে নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে, সেসব আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
এই বিষয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ইউপিডিএফের চাপে কোনো সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি দেয়নি। তবে সাধারণ জনগণের হয়ে দুটি সংগঠন যে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, তার প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে।