রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয়বারের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আজ বুধবারের মধ্যেই সাজেক এলাকা ত্যাগ করে চলে আসার জন্য সব পর্যটককে অনুরোধ জানিয়েছেন আন্দোলনকারী পক্ষ।
আজ বিকেলে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত শুক্রবার থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়ায় পূজা শেষ হওয়ার পর আগামীকাল থেকে পুনরায় রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আজকের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছিলেন সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। সেই সময় তাঁরা সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিশেষ করে বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু এবং মাচলঙের ১৪ কিলোসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে সাজেকে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির অন্যতম প্রধান দাবি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস–সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া। এর আগে ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বিকেলে প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে পরবর্তীতে গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেন দুই সংগঠনের নেতারা।
আন্দোলনকারীদের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাজেক এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, আর এই কারণেই পুনরায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, ইউপিডিএফের চাপের কারণেই ওই দুটি সংগঠন এই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী অনেক যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।