সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বর্তমানে অনেক ধরনের খাবারকে 'সুপারফুড' হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। চিয়াসিড, ওটস, গ্রিন টি, মধু, কালিজিরা, স্যামন মাছ কিংবা অ্যাভোকাডো ও বেরির মতো খাবারগুলোকে এই তালিকায় রাখা হয়। এসব খাদ্যে বিদ্যমান বিশেষ পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে বড় প্রশ্নটি হলো—আসলেই কি বৈজ্ঞানিকভাবে ‘সুপারফুড’ বলে কিছু আছে?
প্রকৃতপক্ষে, 'সুপারফুড' শব্দটির কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা নেই। সাধারণত যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, আঁশ বা ফাইবার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে, সেগুলোকে বাজারজাত করার সুবিধার্থে বা প্রচারের জন্য এই নামে অভিহিত করা হয়। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলেই যে পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত হবে, এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এর মানে এই নয় যে, এসব খাবারের কোনো বিশেষ গুণ নেই। যেমন—বেরি–জাতীয় ফলে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে। ওটস এবং অন্যান্য পূর্ণ শস্যে থাকে ফাইবার, যা হৃদস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। এছাড়া মাছ, আখরোট ও তিসিবীজ থেকে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। পাশাপাশি বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল শরীরকে প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খাবার পুষ্টিকর হলেই তা অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাভোকাডো ও বাদামের মতো খাবারে উপকারী পুষ্টি উপাদান থাকলেও এগুলোতে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই খাবারের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
এই বিষয়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে অতি গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের তালিকায় বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, মাছ, বাদাম এবং প্রয়োজনীয় দুগ্ধজাত বা বিকল্প খাবার রাখা যেতে পারে।
অতিরিক্ত দাম দিয়ে তথাকথিত সুপারফুড না কিনে প্রতিদিনের সাধারণ খাদ্যতালিক থেকেই পুষ্টির উৎস বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অর্থাৎ, কেবল সুপারফুডের ওপর নির্ভর না করে একটি সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হলো সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: লাজিনা ইসলাম চৌধুরী, পুষ্টিবিদ, রয়েল এইড হসপিটাল, খিলগাঁও, ঢাকা।