হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের ঐক্যের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) লিয়াজোঁ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সকাল ১০টায় এই আলোচনা সভা নির্ধারিত হয়েছে।
উক্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। বৈঠকে তাঁর পাশাপাশি হেফাজতের আরও দুই নেতা এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল থেকে তিনজন করে সদস্য উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে এবং পরবর্তীতে হেফাজত আমির এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।
এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা দলগুলো হলো— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি।
উল্লেখ্য যে, সাত দলের এই ঐক্যের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত ১৬ জুলাই। সে সময় বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজত সংশ্লিষ্ট সাতটি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সেই সভার শেষে জানানো হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে ঐক্যের একটি রূপরেখা জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করা হয়। এরপরই কওমি অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা গতি পায় এবং দলগুলো তাদের রূপরেখা জমা দেয়।
জমা দেওয়া খসড়াগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য প্রত্যাশা করে ইসলামী আন্দোলন। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার বিষয়ে আগ্রহী এই দলটি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব পছন্দ ও মতের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছে। তারা ১১ দলীয় জোটের ভেতরে থেকেই এই সাত দলের সঙ্গে ঐক্য করতে চায়। এছাড়া জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও তাদের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবনায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর দৃঢ় থাকার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। দলটি চায়, একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে এই ঐক্যের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হোক।
একইভাবে, খেলাফত মজলিস জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলগুলোর ঐক্য চাইছে। অন্যদিকে, ইসলামী ঐক্যজোট প্রস্তাব করেছে যে, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদাকেই ঐক্যের মূল ভিত্তি হিসেবে রাখতে হবে। দলটির মতে, এই ভিত্তির ওপরই জোটে দলগুলোর থাকা বা না থাকা নির্ভর করবে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন এই জোটের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকুক হেফাজতে ইসলাম। এছাড়া সাত দলের পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি মজলিসে শুরা গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। তারা আরও চায় যে, এই সাত দলের কোনো সদস্য যেন অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে অন্তর্ভুক্ত না থাকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি তাদের প্রস্তাবনায় জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে।
দলগুলোর ঐক্যের খসড়া নিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পুনরায় বৈঠক হয়। সেখানে হেফাজত আমির ও মহাসচিবসহ সাতটি দলের পাঁচজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। ওই বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে ঐক্যের একটি ফর্মুলা পেশ করা হয়, যেখানে উপদেষ্টা কমিটি এবং মজলিসে শুরা গঠনসহ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ দল ওই শর্তগুলোর বিষয়ে আপত্তি জানালে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। আজকের বৈঠকটি সেই অমীমাংসিত বিষয়গুলো মিটিয়ে ঐক্য চূড়ান্ত করার একটি প্রচেষ্টা।