সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির ওই বক্তব্য ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্যে বিশেষ দায়িত্বশীলতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। তাদের মতে, ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ তাআলাই এই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তাই কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

হেফাজতের নেতারা মনে করেন, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় প্রভাব অত্যন্ত গভীর হয়, যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের কোনো অসতর্ক বা বিতর্কিত মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইসলাম ধর্মও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। তবে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলে নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বক্তব্য দেওয়া বা তাতে সমর্থন জানানো সমীচীন নয় বলে তারা মনে করেন।

নেতারা আরও বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই হলো প্রকৃত ধর্মীয় সম্প্রীতির মূল ভিত্তি। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিবৃতির শেষ অংশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করার এবং এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির নেতারা সতর্ক করে বলেন, এই দাবি পূরণ না হলে ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানেরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন।