মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা। তাঁদের স্পষ্ট কথা, ইশরাক হোসেনকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবার অথবা আহতদের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে এই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত ও যোদ্ধাবৃন্দ’র ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এসব দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা এক লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে, তাঁদের অধিকার সংরক্ষণ এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তাঁর পদত্যাগের ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বক্তব্যে জোর দিয়ে বলা হয়, ইশরাক হোসেনের মাধ্যমে যে কার্যক্রমগুলো এগিয়ে যাচ্ছিল, তা যেন কোনোভাবেই স্থবির না হয়ে যায়।

লিখিত বক্তব্যে ইশরাক হোসেনকে প্রতিমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, যদি সেটি সম্ভব না হয়, তবে শহীদ পরিবার বা আহতদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হোক। এই ক্ষেত্রে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য থেকেও কাউকে মনোনীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে ১১ জনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন আহমেদের বাবা এ কে এম রকিবুল আহমেদ বলেন, “ইশরাক হোসেনের কাছ থেকে শহীদ পরিবারগুলো সহযোগিতা পেয়েছে। তাঁদের কিছু অমীমাংসিত বিষয় তাঁর কাছে তুলে ধরলে তিনি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেছেন। শহীদদের কবরস্থানের জায়গা স্থায়ী করার উদ্যোগও তিনি এগিয়ে নিয়েছিলেন।”

ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে রকিবুল আহমেদ বলেন, “সেটি সম্ভব না হলে জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং জুলাইকে নিয়ে কাজ করেছেন—এমন শিক্ষিত, নীতিমান, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ কাউকে প্রতিমন্ত্রী করা হোক।”

আহত জুলাই যোদ্ধা ওবায়দুল হক জানান, ইশরাক হোসেন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁদের কল্যাণে কাজ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর ছিল। তিনি মনে করেন, তাঁকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হলে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। তবে তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান তিনি।

এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসেন, শহীদ নুর হোসেনের মা নুরন্নাহারসহ অন্যান্যরা।