সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার পদত্যাগ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলই কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুন। ইশরাক হোসেনের অভিযোগ, তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো যেকোনো উপায়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং এর মাধ্যমে তার নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও বাধাগ্রস্ত করা।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন এসব কথা জানান। ওই আলাপচারিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

পদত্যাগের preceding সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। আমি আর তার সঙ্গে যাইনি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। পরে তিনি আমাকে আবার ক্যাবিনেটে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। আমি সেখানে বসে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে অংশ নিই এবং আমরা মিটিংটি সম্পন্ন করি। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা আবার তার অফিসে যাই এবং সেখানে কথা বলি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।”

অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের দিকে একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি এসেছিল। এর আগে তাদের কাছ থেকে পাইপগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দিনও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তারা যখন এলো, তখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আমার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যদি পকেটে নিয়ে বসে থাকি, আর আমার দিকে গুলি ছোড়া হয়, তাহলে আমার কাছে ওই অস্ত্র থাকার কোনো মানে হয় না।”

বিরোধী দলের নেতাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে ইশরাক হোসেন জানান, “তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আপনার যেকোনো কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। এ ধরনের কথা অনেকে বলেছেন।”

আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে চান কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার যেসব মূল নেতাকর্মী ২০২০ সাল থেকে আমার সঙ্গে কাজ করছেন, তারা সব সময় আমাকে ওই জায়গাটিতে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনও চান।”