আমি নাক ডাকি। এই বিষয়টি আমি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছি। কারণ আমার মতে, সবাই তো আর নাক ডাকতে জানে না, কিন্তু আমি জানি। আমার মেজাজের ওপর নাকডাকার এক গুরুতর প্রভাব রয়েছে এবং আমার বিশ্বাস, এই বিষয়টি একেবারেই নতুন কিছু নয়। নাকডাকা নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক রচনা লেখা হয়েছে। সেইসব লেখকদের আমি আমার সালাম জানাই।

নাক ডাকলে আমার ঘুম হয় বেশ গভীর ও প্রশান্তির। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হয়, আমি যেন উড়তে পারি। মনটা খুব খুশি খুশি লাগে। যারা নাক ডাকতে পারে না, তাদের কথা ভেবে আমার মনে আফসোস জাগে। আর যারা নাকডাকা ব্যক্তিদের ওপর রাগ দেখান কিংবা হইচই করেন, তাদের জন্য আমার মায়া হয়। তারা কীভাবে বুঝবে এই বিশেষ গুণের কদর!

নাকডাকার উপকারিতা নিয়ে আমি চাইলে পুরো একটি উপন্যাস লিখে ফেলতে পারি। তবে কেউ তা পড়বে কি না, তা আমি জানি না। কারণ বাস্তবসম্মত লেখার পাঠক পাওয়া বর্তমান সময়ে বেশ দুষ্কর। নাকডাকা আমার কাছে কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং এটি আমার শ্বাস-প্রশ্বাসের অংশ, আমার বেঁচে থাকারই একটি অংশ। এমনকি আমার বাড়িতে চুরির কোনো ভয় নেই। বর্তমানে ডেঙ্গুর এত প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও আমার ঘরে মশার উপদ্রব নেই বললেই চলে। আমি মনে করি, এর পেছনেও হয়তো আমার নাকডাকারই হাত আছে। আমি সত্যিই একজন বড় সুখী মানুষ।

আজ সারা দিনে আমার বেশ ধকল গিয়েছে। তাই বিছানাটাকে আজ নতুন জায়গায় সরিয়ে এনেছি। পড়ার টেবিলটি জানালার পাশে দিয়েছি। আমার মনে হয়, পড়াশোনা শুরু করতে হলে চারপাশের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আর নিজের ভেতরের পরিবর্তনটা নাহয় পরেই হবে। তবে আসবাবপত্র টানাটানি করতে গিয়ে আমার জান বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শরীর খুব ক্লান্ত লাগছে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে কেমন যেন এক অন্যরকম অনুভূতি হলো। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কি কিছু বলতে চাইছে? কোনো ডাক কি আমার জন্য অপেক্ষা করছে? বিছানায় শোয়ামাত্রই আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। আজকের স্বপ্নটা ছিল কিছুটা অদ্ভুত। দেখলাম, একদল লোক গাধা মাথায় নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে— কিন্তু আমি তো হেঁটে যাচ্ছি না! তবে কি আমিও...? আমি দ্রুত হাত-পায়ের দিকে তাকালাম। খুর তো দেখতে পাচ্ছি না, তবে কান দুটো কিছুটা বড় মনে হচ্ছে। এগুলো কি সত্যিই আমার কান?

হঠাৎ যারা আমাকে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তারা আমাকে শূন্য থেকে ফেলে দিল। আর ঠিক তখনই আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি কোথায়? দেখলাম আমি আমার ঘরেই আছি। কিন্তু ঘরটা এত ফাঁকা কেন? আলমারিটা তো এই জায়গায় ছিল না! বিছানাটা গেল কোথায়? আমি মাটিতে কেন শুয়ে আছি?

একটু পর আমি বুঝতে পারলাম, আমার আলমারি, বিছানা এবং টাকাপয়সাসহ সবকিছু গায়েব হয়ে গেছে। সব শেষ! আমার এত বছরের রেকর্ড এক নিমেষে ভেঙে গেল। জীবনের প্রথমবারের মতো আমি ছিনতাইয়ের শিকার হলাম, তাও ঘুমন্ত অবস্থায়। আমার বারবার মনে হতে লাগল, পুরো ব্যাপারটাই হয়তো একটা স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, মন্দ বিষয়গুলো কখনো স্বপ্ন হয় না। এই অর্ধসমাপ্ত এবং ব্যাখ্যাতীত ঘটনার শেষ লাইনটি কী হতে পারে? আজ রাতে আমি নিশ্চিত, নাক ডাকিনি।