প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরতে চাওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে তাঁর বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত মো. ইউসুফ আলীকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব (সংযুক্ত) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে এই প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। রাজশাহীর শাহ মখদুম রূপস (রহ.) বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন এবং এক হাত দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এই ঘটনার রেশ ধরেই গতকাল রাতে তাঁর প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রত্যাহার হওয়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তাঁর দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চাওয়ার ঘটনার সঙ্গে এই পদায়ন আদেশের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মো. ইউসুফ আলী গত আগস্ট মাসে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য-পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে তিনি রাজশাহীর আটটি জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয়, উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রজ্ঞাপন জারির পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।