ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তিনি যৌথভাবে ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক আলোচনায় ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় ইরান। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান ইসরায়েলে হামলা চালায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও আক্রমণ চালানো হয়। এই সংঘাতের ফলে ইরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে এবং জ্বালানির দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর পর দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়নি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে হামলার সংকেত দিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সরকারের পতন ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকালসহ বহুবার আমি এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার এক অঘোষিত সফরে ইসরায়েল সফর করেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের উভদা বিমানঘাঁটিতে নেতানিয়াহু ও হেগসেথের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, “নেতানিয়াহু ও হেগসেথ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় কৌশলের ক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েল অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।”
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন পিট হেগসেথের এই আকস্মিক সফর বা বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।