ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র কুমিল্লায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রটি পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহাল রাখার দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেন। নিজেদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পরবর্তীতে কুমারশীল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ এবং ২০২৪ সালের শেষ বর্ষ মিলিয়ে মোট ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী, ছোট শিশুর জন্ম দেওয়া মা এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত চাকরিজীবীরাও রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লার দীর্ঘ দূরত্ব, রাস্তার অত্যন্ত বেহাল দশা এবং যাতায়াতের জন্য বাড়তি খরচের কথা বিবেচনা করে তারা কুমিল্লায় গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যে, পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত যদি আগে থেকে জানানো হতো, তবে তারা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারতেন। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের জন্য অন্য জেলায় গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তারা মনে করেন।
মানববন্ধনের সময় বক্তারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি এবং মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করে পরীক্ষাকেন্দ্রটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাখা উচিত। তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিল করে আগের মতো স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে।
স mentioned মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন মো. রুকন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন রাশেদ কবির আকন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হোসেন রকি, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, স্বর্ণালী আক্তার ও মাহমুদা আক্তারসহ আরও অনেকে।
এ সময় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, চন্দন দাস, আমীর খসরু খাদেম প্রতীক, শাহ আরমান, শাহজামাল, ইমরান, রনি, আলামীন, মৃণাল ও দুর্জয় প্রধানসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।