দীর্ঘ তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও ভর্তি কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের তালিকা অনুযায়ী, এই ১১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টি প্রতিষ্ঠান ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া বাকি ২৬টি প্রতিষ্ঠান এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী। সংশ্লিষ্ট এই সব প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো পৃথক দুটি তাগিদপত্রের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তাগিদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, “বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ডিপ্লোমা ও এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ১১২টি প্রতিষ্ঠান বিগত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনের শর্তাবলিতে উল্লেখ আছে, প্রতিষ্ঠানে পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে পাঠদান অনুমোদন বাতিল করা হবে।”
বোর্ড আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০ এর বিধি ৫.৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানের সময় দেওয়া শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে।
তাগিদপত্রে আরও বলা হয়েছে, “গত তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় সংযুক্ত তালিকায় উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না, এ বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৫ অক্টোবর ৮৬টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ বা তাগিদপত্র পাঠিয়েছিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। সেই নোটিশে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে তাদের পাঠদান অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রত্যাহারের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। এবার নতুন করে আরও ২৬টি এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।