বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এই চরম গাফিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ড এবং কেন এই অনুমোদন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে তাগিদপত্র জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এই বিশেষ তাগিদপত্রটি জারি করা হয়।

শিক্ষা বোর্ডের জারি করা ওই তাগিদপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনের শর্তাবলীতে উল্লেখ আছে যে, প্রতিষ্ঠানে পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে অনুমোদন বাতিল করা হবে।”

এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রণীত 'বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০'-এর বিধি ৫.৪-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই নীতিমালার বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে, সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

উল্লেখ্য যে, পর পর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করা এই ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ১ অক্টোবর তারিখের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুনরায় নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের কথা বলা হয়। তবে তা সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।

যে সকল প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পুনরায় ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ নোটিশে।

অনুমোদন বাতিল করতে চাওয়া ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।