দেশের ৮৬টি বেসরকারি ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। গত তিন বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট ৮৬টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ বা তাগিদপত্র পাঠিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ওই চিঠিতে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে কেন তাদের পাঠদান অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হবে না, তার সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি এম আমিনুল ইসলাম এই তাগিদপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

তাগিদপত্রে উল্লেখ করা হয়, “কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালার ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অবকাঠামো, ফলাফল, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করার এখতিয়ার বোর্ডের রয়েছে।”

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “অনুমোদনের শর্তাবলিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে পরপর তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিল করা হবে।”

বোর্ডের পাঠানো সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। জানা গেছে, এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থী-সংকটের কারণে বছরের পর বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বোর্ড এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।