ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলমান অস্থিরতা ও বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে এবার চুরির শিকার হয়েছেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন এই তারকার সই করা বার্সেলোনার একটি জার্সি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চুরি করা এই মূল্যবান স্মারক দুটি হাতে নিয়ে তাঁদের ঘুরে বেড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিক এলাকার নিকটবর্তী একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই স্মারক দুটি চুরি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত দুই মুখোশধারী ব্যক্তি মেসির সেই জার্সি ও আর্মব্যান্ড প্রদর্শন করছেন। তবে ভিডিওটিতে সরাসরি চুরির মুহূর্তটি ধরা পড়েনি।

চুরি হওয়া জার্সিটি মেসির বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের স্মৃতিবিজড়িত। বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটিতে রয়েছে আর্জেন্টাইন তারকার স্বাক্ষর। এর পাশাপাশি তাঁর সই করা অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটিও চুরি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, স্মারক দুটি ফ্রেমে বাঁধাই করা অবস্থায় ছিল।

তবে স্মারক দুটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাধারণত মেসির ব্যবহৃত এবং স্বাক্ষর করা সামগ্রীর বাজারমূল্য অত্যন্ত চড়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোনো ঐতিহাসিক ম্যাচে তাঁর পরা জার্সি নিলামে বিপুল দামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপের সময় মেসির পরা ছয়টি জার্সি নিলামে মোট ৭৮ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে ব্যবহৃত জার্সিটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সোথবিস নামক নিলাম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিক্রি সম্পন্ন হয়।

প্যারিসে চুরি হওয়া জার্সি ও আর্মব্যান্ডের সুনির্দিষ্ট মূল্য জানা না গেলেও, এএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগ্রাহকদের বাজারে এসব স্মারকের মূল্য কয়েক হাজার ডলার হতে পারে। তবে এগুলোর সত্যতা, ব্যবহারের ইতিহাস এবং সংরক্ষণের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্যারিসসহ বেশ কিছু শহরে এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়, যার ফলে ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেই অরাজক পরিস্থিতির মধ্যেই মেসির স্মারক চুরির অভিযোগ ওঠে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে প্যারিসে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মেসির সাবেক দুই ক্লাব পিএসজি ও বার্সেলোনা। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ম্যাচটি বাতিলের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ। বাংলাদেশ সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১টায় পার্ক দে প্রাঁসে এই ম্যাচটি শুরু হবে।