জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির থেকে আকস্মিকভাবে চলে যাওয়ার কারণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে ২৫৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার ৩৮৩ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফেডারেশনের শৃঙ্খলা পরিষদ তাদের এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।

তবে পর্তুগিজ অধিনায়কের জন্য পুরো ৩০ দিন নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হবে না। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ১৯ দিন এই মেয়াদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার মুহূর্তে তার শাস্তির মেয়াদ বাকি ছিল মাত্র ১১ দিন।

পর্তুগিজ ক্রীড়া দৈনিক রেকর্ড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হিসাব অনুযায়ী ৩০ অক্টোবর রোনালদোর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। এর ফলে নভেম্বরে জাতীয় দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নেশনস লিগের আসরে ১৪ নভেম্বর ডেনমার্ক এবং ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দলে ফিরতে হলে তাকে অবশ্যই কোচের ডাক পেতে হবে।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে পর্তুগালের অনুশীলন শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে তীব্র মতবিরোধের কারণেই ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

রোনালদোর অভিযোগ ছিল, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জেসুস, কিন্তু সেই কথা রাখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচটি তাকে বেঞ্চেই কাটাতে হয়। পরবর্তীতে নিজের এক বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, ‘বিরতি থেকেই গা গরম করেছি, সময় গড়িয়ে যেতে দেখেছি, কিন্তু আমাকে ডাকা হয়নি।’

শুধুমাত্র ম্যাচে না খেলানোই নয়, বরং এই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করার ব্যাপারেও জেসুস প্রতিশ্রুতি কথা রাখেননি বলে অভিযোগ করেছেন রোনালদো। তার দাবি, কোচ পরপর দুইবার কথা না রাখায় তিনি শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে, কোচ হোর্হে জেসুস রোনালদোর সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে জাতীয় দলে তার ফেরার পথ তিনি পুরোপুরি বন্ধ করেননি বলে জানিয়েছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৯ অক্টোবর শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু হয়। রায়ে বলা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো নিঃশর্তভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন রোনালদো। ফলে ফেডারেশনের বিধিমালার ১৬০(১) ধারা ভঙ্গের দায়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চলতি মৌসুম এবং আগের তিনটি মৌসুমে ফেডারেশনের নথিতে তার কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড না থাকা এবং অপরাধ স্বীকার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া ফুটবলে তার দীর্ঘদিনের অবদান এবং পরবর্তী অনুশোচনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে শৃঙ্খলা পরিষদ।

তবে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে রোনালদোর যে বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে, সেটির কথা উল্লেখ করেছে পরিষদ। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই শিবির ছেড়ে যাওয়া একজন অধিনায়কের দায়িত্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

রোনালদো এর আগে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের ছেড়ে চলে আসার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, শাস্তি ভোগের পর শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন।