বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী তিথিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কুমারী পূজা উদ্‌যাপিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকায় অবস্থিত শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে এই বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। মহাষ্টমীর এই অনন্য ধর্মীয় আচার প্রত্যক্ষ করতে সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও উৎসুক মানুষ।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, কোলাসুর নামক অশুভ শক্তিকে বধ করার মধ্য দিয়ে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়। বর্ণিত আছে যে, কোলাসুর যখন স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে নেয়, তখন বিপন্ন দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হন। তাদের আকুল আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবী কুমারী রূপে অবতার গ্রহণ করেন এবং কোলাসুরকে বধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। ধর্মীয় কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে, সেই ঘটনার পর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার সূচনা হয়।

এ বছরের আয়োজনে কুমারী হিসেবে পূজিত হয়েছেন ছয় বছর বয়সি রূপকথা সাহা। তিনি প্রকৌশলী রতন সাহা ও প্রিয়াঙ্কা সাহা দম্পতির সন্তান। কেজি শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রূপকথাকে দেবী দুর্গার ‘উমা’ রূপে পূজা করা হয়। পুরো পূজার আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালনা করেন আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী।

সন্তানকে দেবী রূপে পূজিত হতে দেখে আবেগপ্লুত হয়ে রূপকথার মা প্রিয়াঙ্কা সাহা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়েকে কুমারী হিসেবে পূজা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের এই শুভ দিনে দেশবাসীসহ সবার মঙ্গল কামনা করেছি।”

পূজা প্রত্যক্ষ করতে আসা ভক্ত মেঘা বসাক বলেন, “আমি প্রতিবছরই এখানে কুমারী পূজা দেখতে আসি। কুমারী মূলত নারীশক্তির বড় প্রতীক। সমাজজুড়ে নারীশক্তির জয় হোক—এটাই প্রার্থনা।”

আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী এই আচারের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে জানান, কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ারই প্রতীক। দেবী দুর্গার আরেক নাম কুমারী। নারীকে সমাজে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার ভাবাদর্শ থেকেই কুমারী পূজার মূল সূচনা। মাটির প্রতিমায় যে দেবীকে আবাহন করা হয়, কুমারী পূজায় সেই দেবীরই জীবন্ত রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় সর্বমোট ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।