সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পেশা ছেড়ে অভিনয়ের আঙিনায় এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অভিনেতা নামির খান। ‘কার্জ–ই–জান’ এবং ‘এক অউর পাকিজা’র পর বর্তমানে ‘দার-ই-নাজাত’ ধারাবাহিকে জামিল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মাঝে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। তবে সম্প্রতি তাঁর আঙুলে একটি সোনালি আংটি এবং রহস্যময় ক্যাপশন দেখা যাওয়ায় অভিনেতার বাগ্দান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
নামির খান তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তাঁর আঙুলে থাকা সোনালি রঙের আংটিটি ভক্তদের বিশেষ নজর কেড়েছে। ছবির সাথে দেওয়া ক্যাপশনটি কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নামির লিখেছেন, ‘বুঝে নিন, আর বিরক্ত করবেন না।’ তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় মন্তব্যের পর অনেকেই ধারণা করছেন, অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ভক্তই মনে করছেন, এই ছবির মাধ্যমেই তিনি পরোক্ষভাবে তাঁর বাগ্দানের খবর জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ভক্ত তাঁকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন। তবে আংটি পরা ছবি বা ক্যাপশনে সরাসরি বাগ্দানের কথা উল্লেখ করেননি নামির। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
উল্লেখ্য, উমেরা আহমেদের লেখা ‘দার-ই-নাজাত’ ধারাবাহিকে জামিল চরিত্রে অভিনয় করে বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন নামির খান। এই নাটকে তাঁর বিপরীতে জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করছেন দুরে ফিশান সেলিম এবং আবু বকর চরিত্রে রয়েছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার। পুরো ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাকিব খান।
২০২৩ সালে ‘মেইন’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় নামিরের অভিষেক ঘটে। এরপর ‘কার্জ-ই–জান’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘মেইন মান্টো নেহি হুঁ’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। এছাড়া ২০২৬ সালে ‘এক অউর পাকিজা’ নাটকে ফারাজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির।
অভিনয়ে আসার আগে নামির খানের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। লাহোরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই অভিনেতা সফটওয়্যার প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর এক বছর এই পেশায় নিয়োজিত থাকার পর স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য তিনি কানাডায় যান। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।
২০২৪ সালে ‘গ্রাজিয়া পাকিস্তান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নামির তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর মনে হতো, জীবনে যেন কোনো উদ্দেশ্য নেই। নিজের প্রকৃত আগ্রহ ও লক্ষ্য সম্পর্কে উপলব্ধি করার পরেই তিনি বিনোদনজগতে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অভিনয়ে নিয়মিত ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বজায় রয়েছে।