নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানাম নগরী এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সফরসঙ্গীদের সাথে নিয়ে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণের কারুপল্লীতে অবস্থিত বিখ্যাত জামদানি পল্লীও পরিদর্শন করেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাষ্ট্রদূত পানাম নগরীতে পৌঁছান এবং সেখানকার শতবর্ষী প্রাচীন ঐতিহাসিক ভবন ও স্থাপত্যগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর সকাল ৯টার দিকে তিনি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে যান। সেখানে জামদানি পল্লীতে কারিগরদের হাতে শাড়ি বুননের শৈল্পিক কাজ প্রত্যক্ষ করেন এবং জামদানি শাড়ির সূক্ষ্ম কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসাইন, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডি, মুখপাত্র পূর্ণিমা রায়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা অ্যারিক ওয়েলস এবং ফরেন সার্ভিস ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটর শেখ শিবলীসহ আরও অনেকে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম, পানাম নগরীর সহকারী কাস্টডিয়ান তানজিলুর রহমান এবং সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম জানান, “মার্কিন রাষ্ট্রদূত জামদানি পল্লী ঘুরে দেখেছেন। কারুশিল্পীদের হাতে বোনা জামদানি শাড়ির নকশা ও কারুকাজ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে তিনি বড় সরদারবাড়ি ও ফাউন্ডেশনের জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে আবারও সেখানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।”
অন্যদিকে, পানাম নগরীর সহকারী কাস্টডিয়ান তানজিলুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রদূত অল্প সময়ের জন্য পানাম নগরীতে অবস্থান করেন। এটি মূলত তার পারিবারিক সফর ছিল। তিনি ৩৩ নম্বর ভবন থেকে পরিদর্শন শুরু করে নগরীর বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভবন ঘুরে দেখেন। এ সময় পানাম নগরীর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।”