নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে একটি ভবনে গ্যাস লিকেজজনিত বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবশেষ রনি মিয়া (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীসহ আরও তিনজনের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ভাই-বোন এবং বোনের স্বামী রয়েছেন।

সবশেষ মারা যাওয়া রনি মিয়া বিস্ফোরণের ঘটনাস্থলে অবস্থিত ছয়তলা ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ তার মৃত্যু হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে দগ্ধ রোজিনা আক্তার (৩০) বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোর ৪টার দিকে মারা যান রোজিনার স্বামী শরীফ হোসেন (৩৪)। একই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রোজিনার ছোট ভাই রিয়াজের (২২)। বিস্ফোরণে শরীফ ও রিয়াজের শরীরের ৪০ শতাংশ করে পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুজনেরই শ্বাসনালি দগ্ধ হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে। সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের শাহ আলম মিয়ার মালিকানাধীন ছয়তলা ভবন 'ইসলাম টাওয়ার'-এর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে এই বিস্ফোরণ ঘটে। জানা গেছে, গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত কম্প্রেসার লাইনে গ্যাস লিকেজ হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের পরপরই দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, “দগ্ধ চারজনের অবস্থাই গুরুতর ছিল। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”