নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক তিনটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ রোববার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজজনিত বিস্ফোরণ এবং নগরের দেওভোগ এলাকায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণের এই ঘটনাগুলো ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আহত ও দগ্ধ সবাইকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ দুই শ্রমিকের শরীরের যথাক্রমে ৫৪ ও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, কাঁচপুরের বিস্ফোরণে দগ্ধ চারজনের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার মুক্তকণ্ঠকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ড
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা এলাকায় অবস্থিত একটি রাসায়নিক গুদামে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিক আনোয়ার (৪০) ও শামসুল (৩০) দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়ভাবে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। জানা গেছে, আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ শরীর পুড়ে গেছে।

কাঁচপুরে বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ
গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় একটি বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির চারজন দগ্ধ হন। দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে—শরিফ (৩৪), তাঁর স্ত্রী রোজিনা (৩০), শরিফের ছোট ভাই রিয়াজ (২২) ও রনি (১৯)। তাঁদের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

দেওভোগে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ
আজ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগরের দেওভোগ আখড়ার মোড়ের জিউস পুকুরপাড় এলাকায় একটি বাড়িতে সিলিন্ডারের গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শিখা রানী, মনা আচার্য ও মনার মা দগ্ধ হয়েছেন। তবে দগ্ধ ব্যক্তিদের বয়স এবং মনার মায়ের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁদেরও দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কাঁচপুর, ফতুল্লা ও দেওভোগে পৃথক ঘটনায় নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”