ময়মনসিংহের প্রবীণ সাংবাদিক, জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন আর নেই। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর নেক্সাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

তার বড় মেয়ে মিমি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নামাজে জানাজা বাদ আসর ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা গণসার মোড় গোরস্থান মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই মরদেহ দাফন করা হবে।”

মো. আব্দুল মতিন জেলার ফুলবাড়ীয়া থানা এলাকায় ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সবদুর রহমান ও জামেলা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় বসবাস করতেন এবং ১৯৮৮ সালে ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সদস্যপদ লাভ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। এজন্য তাঁকে দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। পরে নগরীর নেক্সাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মো. আব্দুল মতিন স্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে, নাতি- নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সাংবাদিকতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য পরিচিত আব্দুল মতিন ময়মনসিংহের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি দৈনিক নিউ টাইমস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে ময়মনসিংহের সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পরিবার তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি মো. আব্দুল মতিনের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকতা জগতের একজন অভিজ্ঞ, নিবেদিতপ্রাণ ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। দৈনিক নিউ টাইমস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে ময়মনসিংহের সাংবাদিক সমাজ একজন অভিভাবককে হারাল। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”