জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অটোভ্যানচালক সাখাওয়াত হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা এবং তাঁর যানবাহন ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, যাত্রী সেজে ভ্যান ভাড়া করে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ছিনতাই করা ওই অটোভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় অপরাধ চক্রের সদস্যরা।
আজ রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু কামাল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হাবিল উদ্দিন (৪০), তাঁর সহযোগী আনোয়ার হোসেন (৪৭), জাকারিয়া (৩০) এবং জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বিপ্লব।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুর বাজার থেকে পাথরঘাটা যাওয়ার কথা বলে সাখাওয়াত হোসেনের অটোভ্যানটি ভাড়া করেছিলেন হাবিল উদ্দিন। ভ্যানটি যখন পাথরঘাটা সেতুর পাশের একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছায়, তখন হাবিল হঠাৎ লোহার শাবল দিয়ে সাখাওয়াতের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করেন। এই অতর্কিত আক্রমণে চালকের মৃত্যু হয়। এরপর রক্তমাখা ভ্যানটি একটি গামছা দিয়ে মুছে পরিষ্কার করেন তিনি। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রক্তমাখা গামছা ও ব্যবহৃত শাবলটি সেতুর নিচে ফেলে দিয়ে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হাবিল। পরবর্তীতে চক্রের সদস্য আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় ছিনতাই করা ওই অটোভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে জয়পুরহাট ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার শাবল, রক্তমাখা গামছা এবং ভ্যান বিক্রির প্রাপ্ত টাকার মধ্য থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ডিবি ওসি রাজু কামাল বলেন, “এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অধিকতর তদন্ত চলছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে”।