জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা তিনটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই বিশেষ অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর জব্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার পুরইল গ্রামের মৃত জগা মাহাতের ছেলে সন্তোষ মাহাত (৩৫) এবং পূর্ব বালিঘাটা গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে সুজন চন্দ্র রায় (৩৪)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) জানতে পারে যে, পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করে কয়েকটি কষ্টিপাথরের মূর্তি লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে পুলিশ এবং পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম অভিযানে ৪২ কেজি ৭০০ গ্রাম এবং ৩৭ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অভিযানে ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে তিনটি মূর্তির মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ৮৯ কেজি ১০০ গ্রামে। বিজিবি উদ্ধার করা এই মূর্তিগুলোর জব্দ মূল্য ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, উদ্ধার করা তিনটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে হস্তান্তর করা হয়েছে।