জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর দিলীপ কুমার মাঝি হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই মামলায় দণ্ডিত আসামি মোজামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে দণ্ডিত মোজাম পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের মৃত সোলেমানের ছেলে। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ২০ মে রাতে পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে দিলীপ কুমার মাঝি নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয় যে, একই গ্রামের বাসিন্দা মোজাম বিভিন্ন সময়ে দিলীপের স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এই বিষয়টি যখন দিলীপ এবং তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, তখন মোজাম অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার পর তিনি দিলীপকে মারধরও করেছিলেন।

মামলার বিবরণীতে আরও জানানো হয়, ঘটনার রাতে দিলীপ যখন ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বাইরে যান, তখন মোজাম এক সহযোগীকে সাথে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। সেই মুহূর্তে দিলীপের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর দিলীপ ঘরে ফিরে আসতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে এটিকে আত্মহত্যার মতো দেখায়। পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচবিবি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম পাশা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সোমবার আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।