দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের চার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়কও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে হিলির মুহাড়াপাড়া ও ফকিরপাড়ায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—হিলির মুহাড়াপাড়া গ্রামের মাহে আলম প্রধান (৫০), তার দুই ছেলে রিমন (২৮) ও শাহরিয়ার প্রধান রিফাত (২৫) এবং ধরন্দা গ্রামের মৃত রেজাউল মন্ডলের ছেলে বেলাল হোসেন (৩০)। রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে মাহে আলম প্রধান হাকিমপুর পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, রিমন পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক, শাহরিয়ার প্রধান রিফাত পৌর ছাত্রদলের সদস্য এবং বেলাল হোসেন পৌর যুবদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই যৌথ অভিযানে হাকিমপুর থানা-পুলিশ, জয়পুরহাট ২০ বিজিবি, এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বিজিবির প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই যৌথ বাহিনী এই অভিযানটি পরিচালনা করে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাদক সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীরা বাড়িতে মাদক মজুত করেছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানের শুরুতে হিলির মুহাড়াপাড়া গ্রামে তল্লাশি চালানো হয়। পরবর্তীতে আটক এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফকিরপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। এই দুই পর্যায়ে মাদকসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়।
অভিযান চলাকালীন তাদের কাছ থেকে ৭১১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১২ বোতল ফেনসিডিল, তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৫ হাজার ২৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মোট জব্দমূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ২০০ টাকা। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদশাহ আলম জানান, “শনিবার রাতে যৌথ বাহিনী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ চারজনকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাদের দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”