গত বছরের সেপ্টেম্বরে আকস্মিকভাবেই ২৫ বছরের দীর্ঘ সংগীত জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসান খান। বর্তমানে তাঁর জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে গায়ক তাহসান কী করছেন এবং কীভাবে তাঁর সময় কাটছে, তা জানতে গতকাল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মুক্তকণ্ঠের সাথে কথা বলেন তিনি। মনজুরুল আলমের নেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত এখানে তুলে ধরা হলো।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে জন্মবার্ষিকীর আগাম শুভেচ্ছা জানালে তাহসান বলেন, “অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
দিনটি নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, “না, জন্মদিন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। দিনটি স্বাভাবিকভাবেই কাটানোর চেষ্টা করি।”
জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা জিজ্ঞেস করা হলে, কোন সময়টিকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বা মিস করেন, তাহসান উত্তর দেন, “আসলে আমাদের জীবন, ক্যারিয়ার তো ঘটনাবহুল। এ সময়ের মধ্যে, কোনো একটা সময় আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ; এমনটা মনে আসে না। মিস করার চেয়ে বর্তমানে বেঁচে থাকতে ভালোবাসি।”
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের তাহসান এবং বর্তমান তাহসানের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুতে শিল্পীসত্তার বিচ্ছুরণ বেশি ছিল, তারকাখ্যাতি তেমন ছিল না। অনেক সংগ্রাম, পরিশ্রম করার পরে খ্যাতি পেয়েছি। দর্শক শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছি। এই তো পরিবর্তন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীসত্তাটা খ্যাতির গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে অনেকটাই।”
সফল ক্যারিয়ারের শীর্ষ থেকে হঠাৎ বিরতি নেওয়ার পর এখন সময় কীভাবে কাটছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি জীবনকে উপভোগ করতে চাই। জীবন উপভোগ করে সময় কাটছে। একসময় গান লেখা, সুর করা, গানের রেকর্ডিং, কনসার্ট—সব অনেক প্রেম নিয়ে উপভোগ করতাম। তারপর একটা সময় ভুলে গিয়েছিলাম, কীভাবে এই উপহারগুলো উপভোগ করতে হয়। বিরতিতে আবার চেষ্টা করছি সেই পুরোনো মানুষটাকে খুঁজে বের করতে। তারকাখ্যাতি আর খ্যাতির বিড়ম্বনা থেকে দূরে থাকাটা খুব জরুরি এই কাজটায়। এভাবেই সময়গুলো কাটিয়ে দিচ্ছি।”
দীর্ঘ এই পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং কোনো অপ্রাপ্তি আছে কি না, তা জানতে চাইলে তাহসান বলেন, “দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি অনেক গান করেছি। নিজে বহু গান লিখেছি। বহু গানের সুর করেছি। সেসব গান, যা আমার শ্রোতাদের মনে এখনো বেঁচে আছে, সেসবই হয়তো বড় প্রাপ্তি। আর কোনো অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবি না।”
এর আগে বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে গাওয়া একটি গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, বেশ আগের করা। করোনার মধ্যে হঠাৎ করেই মেয়েকে নিয়ে গানটি করেছিলাম। অনেকে পছন্দ করেছিল। আর মেয়েকে নিয়ে যদি বলি, ও হয়তো আমার চেয়ে ভালো মাপের একজন শিল্পী হবে।”
মেয়ে আইরার আবদারগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসিমুখে তিনি বলেন, “হা হা, মেয়ের আবদারের তো শেষ নাই। আবদার তো নতুন নতুন, একেক বছর একেক রকম। এই তো গত সপ্তাহে আবদার ছিল, কমিক-কন নিউইয়র্কে যাবে।”
জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেয়েছেন কি না, এই দার্শনিক প্রশ্নে তাহসানের উত্তর, “দেখুন জীবনের প্রতি মুহূর্তে জীবনদর্শন আলাদা, বদলায়। এটা সবার জন্যই। আমারও জীবনদর্শন বদলেছে। আমার সেই জীবনদর্শন খুঁজেও পেয়েছি, তবে সেটা একান্তই আমার নিজের। এটা নিয়ে কিছু বলতেও চাই না। কখনো বলার মতো ভাষা পেলে গান-কবিতাতেই লিখব। সেটা সময়ই বলে দেবে।”
শ্রোতাদের মাঝে নতুন গানের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। পুনরায় গান নিয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শ্রোতাদের কাছে সব সময়ই কৃতজ্ঞতা। তাদের কারণেই আমি আজকের জায়গায় এসেছি। তারা আমার গান শুনতে চায়, সেটা অনেক ভালো লাগার। কিন্তু ফেরা নিয়ে বা এ বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।”
নতুন কোনো পরিচয় বা নতুন কোনো রূপে দর্শকদের সামনে আসার সম্ভাবনা আছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আর কত পরিচয়! অনেক হয়েছে। তেমন কোনো কিছুতে দেখার সম্ভাবনা কম।”