কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম সংকটে পড়েছিলেন ইসমাইল হোসেন (৩০) ও তাঁর স্ত্রী। বের হওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবন বাঁচাতে এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেন তিনি। রিসোর্টের একটি জানালা ভেঙে প্রথমে স্ত্রীকে বাইরে বের করে দেন ইসমাইল, এরপর নিজেও জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এই ঘটনার ফলে দম্পতি উভয়েই আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁদের আকাশপথে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইসমাইল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পেশায় ইসমাইল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা এবং তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা প্রিমিয়ার ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। তাঁদের দুজনেরই স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর দক্ষিণখান।
রাত নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে মেহেরুন নেছার চাচাতো ভাই মাইনুল আহসানের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “একই পরিবারের ১০ জন গত বুধবার কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। আজ সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার পর তাঁরা বের হতে পারছিলেন না। তখন ইসমাইল একটি চেয়ার দিয়ে রিসোর্টের জানালা ভেঙে প্রথমে স্ত্রীকে বাইরে বের করে দেন। পরে নিজেও জানালা দিয়ে লাফ দেন।”
মাইনুল আরও জানান, জানালা দিয়ে বের হওয়ার সময় মেহেরুন নেছার ডান হাত কেটে যায় এবং তাঁর বাঁ পায়ের মাংসপেশিও থেঁতলে যায়। অন্যদিকে, নিচে লাফিয়ে পড়ার কারণে ইসমাইলের কোমরে গুরুতর আঘাত লেগেছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসার পর তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইসমাইলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মেহেরুন নেছাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য যে, আগুনে তাঁদের দুজনের কেউই দগ্ধ হননি।
মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনই এই পরিবারের আত্মীয় বলে জানান মাইনুল আহসান। তিনি বলেন, “তিন দিন কক্সবাজার ঘুরে আজ সবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যে সকালে রিসোর্টে আগুন লেগে তাঁরা মারা গেছেন।” নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারিহা কবির (৩৩) এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) এবং নাসির উদ্দিন (২৫), যারা ফারিহা কবিরের খালাতো ভাই-বোন।
এই ভয়াবহ ঘটনায় আরও ছয়জন দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)-ও রয়েছেন।