কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের হত্যা মামলার তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এই মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন পুলিশ সুপার। মূলত যুবদলকর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিটের বিষয়ে এই তথ্য জানান।

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অপ্রতীম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন, ১৫ বছর বয়সী মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ এবং মো. কামরুল হাসান।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সাথে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা এক নির্জন জঙ্গলে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তার সাথে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন স্বীকার করেছে যে সে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়েছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়। এরপর ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যবর্তী সময়ে সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে অপ্রতীমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই প্রচেষ্টায় অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই মামলায় সিয়াম নামের ১৯ বছর বয়সি আরও এক তরুণ বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফাহাদ ও কামরুল গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে অবস্থান করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।