কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, পরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় মোট চারজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, গত ২০ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত ২০ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।”
এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন যে, এক সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।
আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে অভিযোগপত্রের বিস্তারিত বিবরণ তিনি এখনও জানেন না। তিনি দ্রুত মামলার বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রায় কার্যকরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ শুক্রবার সকালে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনি পুলিশ মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন দিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাইরে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। ওই দিন সে বাসায় না ফেরায় তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপ্রতিমের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পর আসামিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসায় কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ।
চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়েছে। নিহত অপ্রতিমের শোকসন্তপ্ত পরিবার এখন দ্রুত ন্যায়বিচার ও আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।