প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান souhait করেন যেন ফকির লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন ও শিক্ষা স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায় অবস্থিত আখড়াবাড়িতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই বিষয়টি জানান।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সভায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসে জানতে চান, লালন উদ্‌যাপনে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি আছে কি না এবং স্কুলের শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, তা-ও জানতে চান তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী চান, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক।”

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে লালনের দর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে লালনের দর্শন অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিচয়বাদী সংঘাত প্রকট হয়ে উঠেছে। সাদা-কালো, মুসলিম-হিন্দু কিংবা ইহুদি-মুসলিম ভেদাভেদের কারণে মানুষ সংঘাতের পথে হাঁটছে। এমন এক অস্থির সময়ে লালনের অনন্য দর্শন শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, লালন সাঁই প্রায় ১১৫-১১৬ বছর জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তার তিরোধানের পর ১৩৬ বছর পার হয়ে গেছে। সেই দীর্ঘকাল আগে তিনি জাতি, ধর্ম, লিঙ্গসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে কথা বলেছিলেন। বর্তমানে পৃথিবী যে কারণে অশান্ত হয়ে উঠছে, লালনের ভাবাদর্শ ঠিক সেখানেই কার্যকর হতে পারে। কেবল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেই নয়, বাংলাদেশের মাটিতেও পরিচয়বাদী রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এই বিভেদের রাজনীতি রুখতে লালনের দর্শন অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কুষ্টিয়া একদিন প্রকৃত লালন নগরীতে পরিণত হবে এবং এখানে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এছাড়া গড়াই ও মধুমতি নদীতে পুনরায় নৌকা চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা।