মানুষের সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান করাই ছিল ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষার মূল ভিত্তি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই মত ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা নিহিত রয়েছে লালন সাঁইয়ের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জীবনদর্শন ধারণ করার মধ্যে। তিনি বলেন, "লালন সাঁইয়ের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবনদর্শন ধারণ করাই বর্তমান সময়ে প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা। তিনি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সাধক। যে সময়ে সমাজে জাতপাত ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে তীব্র বৈষম্য ছিল, সে সময়ে তিনি অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবপ্রেমের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। পীর, মাশায়েখ ও সাধু-দরবেশদের দর্শন এ দেশের আবহমান সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।"

শিক্ষা এবং জীবন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কেবল বিনোদনের জন্য সারা বছর লালনের গান শুনলেই হবে না, বরং তার আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "সারা বছর লালনের গান শুনে বিনোদন লাভ করলেই চলবে না; তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে নিতে হবে। জানা বিষয় যদি জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে এ ধরনের আয়োজনের সার্থকতা থাকে না। একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে ও শ্রদ্ধা করতে শেখেন।"

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতার কথা টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে অশান্তি ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে। এই সংকটময় সময়ে লালনের মানবসেবার দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি সব ধরনের সংকীর্ণতা ও সামাজিক বিভেদ ভুলে বঙ্গোপসাগর কিংবা আকাশের মতো উদার মন নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে লালন আখড়ার উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির নেতারা। এছাড়া দেশ ও বিদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক লালনভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।