ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ পাঠিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট নোটিশে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, দেলাওয়ার হোসেন এবং তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের উসকানি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করার এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাখিল করা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) অনুচ্ছেদের বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। নোটিশে এই বিষয়ের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না, সেই বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ২১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিযোগের বিপরীতে যদি কোনো প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে, তবে তা উপস্থাপন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শেষ করার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এই অভিযোগকারী হিসেবে মো. পয়গাম আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এই অভিযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।