মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে আসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শিবচর থানায় ঘেরাও করে বিক্ষোভ হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যার দিকে ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত অন্তত ২০ নেতা–কর্মী। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও প্রার্থনা করেন। বিষয়টি নিয়ে আজ মুক্তকণ্ঠের অনলাইনে “‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগের নেতারা’ শিরনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সূত্র জানায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রকাশ্যে আসা ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। পরে তাঁরা একত্র হয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিবচর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ব্যানার–ফেস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করব। এটাই আমাদের কর্মসূচি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা স্বৈরাচর ছিলেন, তাঁরা কীভাবে প্রকাশ্যে এসে রাজনীতি করেন? এটা কোনো ভাবেই শিবচরের জনগণ মেনে নেবে না।’

জানতে চাইলে শিবচর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যাঁরা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’