কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় রুম থেকে বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে শেষ আশ্রয় হিসেবে টয়লেটে ঢুকে পড়েছিলেন অতিথিরা। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে নেমে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেই টয়লেটগুলো থেকেই বেশ কয়েকজন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রিসোর্টে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই দ্রুত নিজেদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও আগুনের প্রচণ্ডতা ও ধোঁয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে তারা বাথরুম বা টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষে থাকা লোকজন বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বাইরে তখন আগুনের লেলিহান শিখা আর বিষাক্ত ধোঁয়ার রাজত্ব। ভেতরে আটকে থাকা মানুষগুলোর কাছে বাথরুমটিই হয়ে উঠেছিল বাঁচার শেষ ভরসা। তবে সেই আশ্রয়স্থল শেষ পর্যন্ত অনেকের জীবন রক্ষা করতে পারেনি।
উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন, “উদ্ধারকাজের সময় টয়লেটগুলোতেও বিশেষভাবে তল্লাশি চালানো হয়। অধিকাংশ মরদেহ টয়লেটের ভেতরে পাওয়া গেছে। সেখান থেকে আমরা কয়েকজনকে উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে দুইজন মহিলা ও একজন শিশু রয়েছে। আরও কেউ আছে কি না, আমরা এখনো খুঁজছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পিলারের ওপর দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া আরও দুটি টয়লেট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারেন, এমন আশঙ্কায় সেগুলোও তল্লাশি করা হবে বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরই ভবনের বিভিন্ন কক্ষের পাশাপাশি বাথরুম ও টয়লেটগুলোতে নিবিড় তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা।
জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে একের পর এক কক্ষ ও টয়লেট তল্লাশি করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। কারণ, আগুনের সময় যারা বের হতে পারেননি, তাদের অনেকেই শেষ মুহূর্তে আশ্রয় নিয়েছিলেন টয়লেটের ভেতরেই।